বাউল সম্রাট লালন শাহ মানবতার বার্তা প্রচার করে গেছেন তার গান ও দর্শনের মাধ্যমে। লালন শাহ মাজার কুষ্টিয়া তার স্মৃতি রক্ষার জন্য কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে নির্মাণ করা হয়েছে, যা বাউল দর্শন ও সংস্কৃতির এক ঐতিহাসিক প্রতীক। প্রতিবছর এখানে হাজার হাজার ভক্ত, পর্যটক ও তার অনুসারীরা সমবেত হন লালন শাহের শিক্ষা ও আদর্শ গ্রহণের জন্য।
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় লালন শাহ মাজার অবস্থিত। এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং বাউল দর্শনের অন্যতম তীর্থ কেন্দ্র। লালন শাহ মাজারে লালনের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে। তার দর্শন অনুসরণকারী বাউল সাধকদের জন্য এই মাজারটি এক পবিত্র স্থান।
ফকির লালন শাহ (১৭৭৪-১৮৯০) ছিলেন এক মহান দার্শনিক, যিনি ছিলেন জাতিভেদ প্রথা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। তার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে তার শিষ্যরা তার সমাধিস্থলে এই মজাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মাজার সংরক্ষণ করা হয় এবং এই মাজার বাউল সম্প্রদায়ের জন্য তীর্থস্থান হয়ে ওঠে।
লালনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর মাজার প্রাঙ্গণে লালন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।লালন মেলা বাউলদের সবচেয়ে বড় মিলনমেলা, যেখানে দেশ-বিদেশের হতে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকেন। বাউল গান, দর্শনচর্চা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এই মেলায় অনুষ্ঠিত হয়। তিন (৩) দিনব্যাপী এই আয়োজনে ফকির লালন শাহ এর জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
লালন মেলা প্রতি বছর দুটি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়:
কুষ্টিয়া লালন শাহ মাজারে গেলে দর্শনার্থীরা দেখতে পারেন:
লালন শাহ মাজারে দর্শনার্থীদের জন্য বেশ কিছু আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে, যেগুলো দর্শনার্থীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে।
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়া গ্রামেলালন শাহ মাজার অবস্থিত। এটি শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে।
মাজারের আশেপাশে পর্যটকদের থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। এছাড়া, কুষ্টিয়া শহরের ভিতরে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে থাকতে পারবেন।
থাকার বিকল্প
ফকির লালন শাহ এর মাজার শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়, এটি একটি জীবনদর্শন, যেখানে সবাই একত্রিত হয় মানবতার সুরে।
১. লালন শাহ মাজার কোথায় অবস্থিত?
লালন শাহ মাজার কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়া গ্রামে অবস্থিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে।
২. লালন শাহ কে ছিলেন?
লালন শাহ ছিলেন বিখ্যাত বাউল সংগীতজ্ঞ ও দার্শনিক, যিনি মানবতা, প্রেম ও সাম্যের বার্তা নিয়ে তার গান ও দর্শন প্রচার করেন।
৩. লালন শাহ মাজারে কী ধরণের অনুষ্ঠান হয়?
প্রতিবছর ডোল পূর্ণিমা ও লালনের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিন দিনব্যাপী লালন মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাউল গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দর্শন আলোচনা হয়।
৪. মাজারে কিভাবে যাওয়া যায়?
ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া বাস বা রেলপথে যাওয়া যায়। কুষ্টিয়া শহর থেকে অটো বা রিকশায় মাজারে পৌঁছানো সহজ।
৫. লালন মেলার সময় কখন?
মেলার প্রধান সময় হচ্ছে ডোল পূর্ণিমা (মার্চ-এপ্রিল) ও লালন শাহর মৃত্যুবার্ষিকী (অক্টোবর মাসে)।
৬. লালন শাহ মাজারে থাকার ব্যবস্থা কেমন?
মাজার সংলগ্ন কিছু গেস্ট হাউস ও আশ্রম রয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল ও আবাসিক ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
৭. লালন শাহ মাজারের বিশেষ আকর্ষণগুলো কী কী?
লালনের সমাধি, লালন একাডেমি, বাউল আশ্রম, লালন মঞ্চ, সংগ্রহশালা, এবং পদ্মা নদীর মনোরম তীর।
৮. লালন শাহ মাজারে ধর্মীয় ভেদাভেদ আছে কি?
না, এটি একটি মুক্ত চিন্তার স্থান যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও জাতির কোনো বিভাজন নেই।
৯. লালন শাহ মাজারের সংরক্ষণ কারা করে?
বাংলাদেশ সরকার মাজারটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ হিসেবে সংরক্ষণ করে।
১০. লালন শাহের দর্শনের মূল কথা কী?
লালন দর্শন মানবতা, প্রেম, ভেদাভেদের পরাজয় ও মুক্তচিন্তার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
Travel Way Info – “ট্রাভেল ওয়ে ইনফো” আপনার ভ্রমণের সেরা সঙ্গী! নতুন গন্তব্য, অনন্য অভিজ্ঞতা, আর আকর্ষণীয় তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন!”
➡️ আরও ভ্রমণ গাইড পড়ুন: ষাট গম্বুজ মসজিদের ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থানসমূহ